নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে গত এপ্রিল মাসে ৪৬৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০৪ জন নিহত ও ৭০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ৫৩ জন এবং শিশু ৪৮ জন। একই সময়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১১৩ জন নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১০২ জন পথচারী, যা মোট প্রাণহানির ২৫ দশমিক ২৪ শতাংশ। এ ছাড়া চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৪৬ জন (১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ)।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল আরোহী ১১৩ জন ছাড়াও ট্রাক-কাভার্ডভ্যানসহ ভারী যানবাহনের আরোহী ৫১ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৬১ জন, বাস যাত্রী ৩০ জন এবং প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাসের যাত্রী ২৪ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার স্থানভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে—১৯৩টি (৪১ দশমিক ৬৮ শতাংশ)। জাতীয় মহাসড়কে ১৬৮টি (৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ), শহরের সড়কে ৫৭টি (১২ দশমিক ৩১ শতাংশ) এবং গ্রামীণ সড়কে ৪৫টি (৯ দশমিক ৭১ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সবচেয়ে বেশি ১৯৪টি (৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯৭টি (২০ দশমিক ৯৫ শতাংশ), পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়ায় ১০৬টি (২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ) এবং পেছন থেকে আঘাতে ৫২টি (১১ দশমিক ২৩ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটে।
সময়ের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে সবচেয়ে বেশি ২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রাতে ১৯ শতাংশ এবং দুপুরে ২০ দশমিক ০৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি হয়েছে ঢাকা বিভাগ-এ। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম সিলেট বিভাগ-এ—১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত। রাজধানী ঢাকা-তে ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, ব্যাংক-বীমা কর্মকর্তা, এনজিও কর্মী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আছেন। শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ৪৯ জন।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন ও সড়ক, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক, ট্রাফিক আইন না মানা এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনাকে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, পরিবহন খাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ চালক তৈরির ওপর জোর দিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।